ডাটা এন্ট্রি থেকে কিভাবে ইনকাম করা যায় -


বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্স ডাটা এন্ট্রি কাজ পাওয়ার ১০ টি সহজ উপায়।

বর্তমান সময়ে প্রতিটি মানুষের জীবনে তথ্য-প্রযুক্তির প্রভাব অনেক ব্যাপক। আর এই ডিজিটাল যুগে ডাটা বা তথ্যই হচ্ছে একটি ব্যবসার অন্যতম চালিকা শক্তি। যদি এক কথায় বলতে হয় তবে বলতে হবে ডাটার মাধ্যমেই কাস্টমারের রুচি, পছন্দ, সমস্যা জানা যায় এবং একটি ব্যবসা সেই অনুসারে তার প্রোডাক্ট সাজাতে পারে, মার্কেটিং বা প্রচার করতে পারে। আর এ কারণেই ছোট থেকে বড় কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠান, ডাটা সংগ্রহ, ম্যানেজমেন্ট এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন নতুন স্ট্রাটেজি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

ডাটা এন্ট্রি একটি এন্ট্রি লেভেলের জব হলেও যাদের মেধা আছে, সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনা করতে পারে তাদের এখানে ভালো করার সুযোগ আছে। আর যেহেতু শিক্ষাগত যোগ্যতা এই পেশায় খুব বেশি প্রয়োজন হয় না। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়া বা পাকিস্তান ডাটা এন্ট্রি জবে সমগ্র বিশ্বে বেশ ভালো পজিশনে আছে। যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং একটি জনপ্রিয় পেশা যেখানে অনলাইনের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বে কাজ করা যায়।

ডাটা এন্ট্রি কি

কম্পিউটারে বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্যে কীবোর্ড কিংবা ভয়েসের মাধ্যমে তথ্য ইনপুট দেওয়ার নামই ডাটা এন্ট্রি। যেমন, টাইপিং, ফর্ম ফিলআপ, অনলাইন সার্ভে, কপি-পেস্ট, ক্যাপশন তৈরি,  ডাটা এডিটিং, ফরমেটিং, কারেকশন, ডাটাবেজ আপডেটিং, ওয়েবপেজ কিংবা ইকমার্সে ডাটা এন্ট্রি, ক্যাপচা এন্ট্রি ইত্যাদি। এরকম প্রায় চল্লিশ-পঞ্চাশ প্রকারের ডাটা এন্ট্রি জব আছে যা বাংলাদেশ থেকে খুব সহজে ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে করা যায়। 

ডাটা এন্ট্রির কি চাহিদা আছে? 

অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে আসা অনেকেই প্রশ্ন করে ডাটা এন্ট্রির চাহিদা আছে কিনা বা ভবিষ্যতে থাকবে কিনা? আসলে এআই এর উন্নতির সাথে সাথে এরকম চিন্তা অনেকেই করছেন। তবে সত্য হচ্ছে ডাটা এন্ট্রির অনেক কাজ আছে এবং এর চাহিদা সারা জীবন থাকবে। যার কয়েকটি আমি উপরে উল্লেখ করেছি। কারণ এআই মানুষের মতো সব কাজ সঠিকভাবে করতে পারে না। সুতরাং তথ্য-প্রযুক্তির যতো উন্নতি হতে থাকবে ডাটা এন্ট্রি কাজের চাহিদা বাড়তেই থাকবে। 

ডাটা এন্ট্রি জব কীভাবে পাবো

ডাটা এন্ট্রি কাজ মোটামুটি সহজ হলেও আপনাকে বেশ কিছু বিষয়ে দক্ষ না হলে ডাটা এন্ট্রি জব পাওয়া বর্তমানে সহজ নয়। যদিও আপনি মাস দুয়েক সময় দিলে এসব দক্ষতা অর্জন করতে পারেন এবং ডাটা এন্ট্রি কাজ শুরু করতে পারেন। 

আর আমাদের আজকের আর্টিকেলের মূল আলোচ্য বিষয় এটিই। অর্থাৎ বাংলাদেশে বসে ডাটা এন্ট্রি কাজ পাওয়ার ১০ টি সহজ উপায়। 

. টাইপিং দক্ষ হওয়া 

ডাটা এন্ট্রি কাজের প্রথম শর্ত হলো আপনার টাইপিং স্কিল বৃদ্ধি করা। অবশ্যই আপনাকে কীবোর্ড না দেখে দ্রুত টাইপ করতে পারতে হবে এবং আপনার টাইপিং সর্বদা নির্ভুল হতে হবে। আসলে কম্পিউটারে যেকোন কাজের জন্য টাইপিং স্কিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনার টাইপিং স্পিড প্রতি মিনিটে ৩৫ ওয়ার্ড এর নিচে হলে আপনি ডাটা এন্ট্রির কাজ করে ভালো করতে পারবেন না। আরও বেশি হলে সেটা আপনার জন্য ভালো। আপনার ইনকাম বেশি হবে এবং আপনার ক্যারিয়ারও দ্রুত উন্নতির দিকে যাবে। 

. কম্পিউটারে বেসিক জ্ঞান রাখা  

তারপর আসে কম্পিউটারের বেসিক জ্ঞান জানা। অর্থাৎ আপনি হয়তো টাইপিং শিখেছেন কিন্তু কম্পিউটারের অন্যান্য বিষয় তেমন জানেন না। যেমন ধরুণ আপনি কম্পিউটারে কীভাবে ফাইল সেভ করতে হয় জানেন না, ইন্টারনেট কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানেন না। এগুলা কম্পিউটারের বেসিক স্কিল। সুতরাং এগুলা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। সেই সাথে কম্পিউটারের প্রিন্টার, রাউটার, ইউপিএস কীভাবে কাজ করে, সমস্যা হলে দ্রুত কীভাবে সমাধান করবেন ইত্যাদি ব্যাপারও আপনাকে আয়ত্তে রাখতে হবে। 

. যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করুন 

ডাটা এন্ট্রি কাজের জন্য আপনাকে ইংরেজি ভাষায় ভালো জ্ঞান থাকতে হবে। কারণ বেশিরভাগ ডাটা এন্ট্রি কাজ ইংরেজিতেই হবে। সুতরাং আপনার ইংরেজি লেখা এবং পড়ায় ধীরে ধীরে আপগ্রেড করতে হবে। সেই সাথে আপনাকে ইংরেজিতে যোগাযোগ দক্ষতাও ভালো হতে হবে। যেহেতু আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে কাজ করবেন সুতরাং যোগাযোগ দক্ষতা ভালো না হলে আপনি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কাজ বুঝে নিতে পারবেন না, আবার তাকে কাজ ডেলিভারি দিতেও সমস্যায় পড়বেন। 

. বেসিক সফটওয়্যার জ্ঞান রাখা

সাধারণত আপনাকে কোন না কোন সফটওয়্যারের মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রি কাজ করতে হবে। এটা অবশ্য কোম্পানীভেদে ভিন্ন হয়। সুতরাং আমি স্পেসিফিক কোন সফটওয়্যারের নাম বলছি না। সাধারণত একটি সফটওয়্যার কীভাবে ইনস্টল করতে হয়, কীভাবে আনইনস্টল করতে হয় ইত্যাদি বিষয় জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া একটি সফটওয়্যার কীভাবে কাজ করে তা দ্রুত বুঝে নিতে পারাও প্রয়োজন। মাইক্রোসফট অফিস এবং গুগল ওয়ার্কস্পেস সম্পর্কে ভালো আইডিয়া নিন। সুতরাং আগে থেকে আপনার এসব বিষয়ে জ্ঞান না থাকলে আপনি ভালো করতে পারবেন না। এজন্য আপনি যখন ডাটা এন্ট্রি শিখবেন তখনই ট্রেইনারেকে এসব বিষয় নিয়ে প্র্রশ্ন করুন। 

. টাইম ম্যানেজমেন্ট শিখুন 

ইয়েস। টাইম ম্যানেজমেন্ট সকল ফ্রিল্যান্সিং কাজেই অতীব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। দ্রুত সময়ে কাজ বুঝে নেওয়া, রেসপন্স করা এবং কাজ রিটার্ন দেওয়া খুব দরকার। অন্যথায় ক্লায়েন্ট আপনার প্রতি অখুশি হবে এবং আপনার ফিডব্যাক খারাপ হয়ে যাবে। একইভাবে কাজের ডেডলাইন মাথায় রেখে সম্পূর্ণ কাজ ডেলিভারি দেওয়াও প্রয়োজন। আপনার সমস্যা থাকবে আবার পরিবারের চাপ থাকবে তবুও সঠিক সময়ে ক্লায়েন্টকে ম্যানেজ করে কাজ করতে পারা একটি দরকারী দক্ষতা। 

. রিসার্চ স্কিল তৈরি করুন 

ডাটা এন্ট্রির অনেক কাজ আছে যা আপনাকে ইন্টারনেটের বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য নিয়ে করতে হবে। দ্রুততর সময়ের মধ্যে সেগুলা না করতে পারলে আপনি ক্লায়েন্টকে খুশি করতে পারবেন না। আর এজন্য আপনার গবেষণার দক্ষতা উন্নত করতে হবে। সেই সাথে দ্রুত কীভাবে তথ্য খুঁজে পেতে হয় সেই ধারণাও আপনার থাকতে হবে। এসব ব্যাপারে আপনাকে কাজে বিড করার আগেই দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এজন্য গুগল এবং সার্চ ইঞ্জিনে কীভাবে তথ্য কালেক্ট করতে হয় তা জানতে হবে।  না হলে আপনি ডাটা এন্ট্রি কাজে সুবিধা করতে পারবেন না। 

. ওয়েবসাইট কীভাবে কাজ করে তার বেসিক শিখুন 

অনেক ডাটা এন্ট্রির কাজ আপনাকে অনলাইনেই করতে হবে। হয়তো একটি ওয়েবসাইট দিয়ে দেওয়া হলো সেখান থেকে ডাটাগুলো এক্সেল শিটে নিতে হবে। আপনার এক্সেল থেকে ওয়েবেও ডাটা এন্ট্রি করা লাগতে পারে। সেহেতু এ ধরণের দক্ষতা না থাকলে আপনি পিছিয়ে যাবেন। এ ধরণের কাজে পেমেন্টও বেশি পাওয়া যায়। ‍সুতরাং একটি ওয়েবসাইটের বেসিক যেমন এইচটিএমএল, সিএসএস বা ওয়ার্ডপ্রেস কীভাবে কাজ করে ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা থাকা প্রয়োজন। তাহলে আপনার কনফিডেন্স বেশি থাকবে। 

. ডাটাবেজ স্কিল গ্রো করুন 

যেহেতু ডাটা এন্ট্রির কাজ করবেন সুতরাং আপনার অনেক কাজই ডাটাবেজ নির্ভর হবে। যেমন ইকমার্স সাইটে ডাটা এন্ট্রি বা কাস্টমার ডাটা কালেকশন ইত্যাদি। আবার এআই কাজেও ডাটা ইনপুটের প্রয়োজন পড়ে বেশ। আর এক্ষেত্রে আপনার ডাটাবেজ স্কিল না থাকলে বড় বড় ডাটা এন্ট্রি কাজ হারাবেন। এসব কাজের ভবিষ্যৎ চাহিদাও অনেক। আপনি যতো দ্রুত এসব স্কিল বৃদ্ধি করতে পারবেন ততই ডাটা এন্ট্রি মার্কেটে আপনি ভালো করবেন। শুধু মাত্র টাইপিং স্কিল দিয়ে ডাটা এন্ট্রিতে সামনের দিনগুলোতে ভালো করা কঠিন হবে। 

. একুরেসি নিয়ে আসুন 

টাইপিং দ্রুত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ একুরেসি ঠিক রাখা। অর্থাৎ আপনার এন্ট্রি যদি ভুল হয় তাহলে তার ফলাফল সঠিক দিবে না। আর ক্লায়েন্ট এ ধরণের ভুল কখনই সহ্য করবেন না। তাদের দরকার একুরেট ডাটা এন্ট্রি। আর এজন্যই তারা আপনাকে হায়ার করেছে। আর আপনি যদি ভুল তথ্য প্রবেশ করান তাহলে তা কখনই ভালো নয়। আর এজন্য আপনাকে টাইপং স্পিড বৃদ্ধি করার সাথে সাথে একুরেসি নিয়ে ভাবতে হবে। বার বার প্রাকটিস করতে হবে। নিজেকে আপগ্রেড করতে হবে। 

১০. টিমওয়ার্ক শিখুন 

এই যুগে এসে একটি অতীব প্রয়োজনীয় দক্ষতা এটি। আপনি টিমওয়ার্ক করতে না পারলে কোন জবেই ভালো করবেন না। আপনার প্রমোশন আটকে যাবে। আর ডাটা এন্ট্রির ক্ষেত্রে টিম ওয়ার্ক করা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি কোম্পানীতে হয়তো ১০ জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আছেন আর তাদের সাথে আপনার কাজ করতে হবে। সবার সাথে সঠিকভাবে কৌশলী হয়ে কাজ করা ছাড়া আপনি এগিয়ে যেতে পারবেন না। সুতরাং টিমওয়ার্ক কীভাবে করতে হয় এবং কীভাবে আরও ভালো করা যায় সে বিষয়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। 

উপসংহার 

সবশেষে বলবো ডাটা এন্ট্রি বেশ সহজলভ্য কাজ হলেও দিন দিন নিত্য নতুন প্রযুক্তির সাথে যারা মানিয়ে চলতে পারে তাদের চাহিদা বাড়তেই থাকবে। আর বাংলাদেশে থেকেও আপনি ডাটা এন্ট্রির কাজ করে সহজে ২০ হাজারের বেশি ইনকাম করতে পারেন। 

সুতরাং আপনি যদি নিজেকে সেভাবে তৈরি করতে পারেন তাহলে স্টুডেন্ট লাইফে কিংবা গৃহিনীদের সংসারের ব্যস্ততার মাঝে ভালো একটি ইনকাম সোর্স হতে পারে। তাছাড়া যারা জব করেন তারাও নিজের ইনকাম বৃদ্ধির জন্য পার্টটাইম ঘরে বসে বাড়তি ইনকাম করতে পারেন। 

আশা করি ডাটা এন্ট্রি কাজ শুরু করতে এই আর্টিকেল আপনাকে সহায়তা করতে। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট সেকশনে করুন। আর ঘুড়ি লার্নিং থেকেও আপনি ডাটা এন্ট্রি শিখতে পারেন। কোন সাপোর্ট লাগলে যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ। 


 ডেটা এন্ট্রি আয়ের কৌশল


আমি অবশ্যই জোর দিয়ে বলতে চাই যে কোনো ধরনের প্রতারণা, অসততা বা অনৈতিক আচরণে জড়িত হওয়া বাঞ্ছনীয় বা ক্ষমা করা হয় না। ডেটা এন্ট্রি বা অন্য কোনও কার্যকলাপ সহ সততা এবং সততার সাথে কাজের কাছে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি যদি ডেটা এন্ট্রির মাধ্যমে আপনার আয় বাড়াতে চান তবে নিম্নলিখিত বৈধ কৌশলগুলি বিবেচনা করুন:

     দক্ষতার উন্নতি:
আরও দক্ষ এবং নির্ভুল হতে আপনার ডেটা এন্ট্রির দক্ষতা বাড়ান। এটি আপনাকে নিয়োগকর্তাদের কাছে আরও মূল্যবান সম্পদ করে তুলতে পারে, যা সম্ভাব্য উচ্চ-প্রদানের সুযোগের দিকে পরিচালিত করে।

     সার্টিফিকেশন:
ডেটা এন্ট্রি বা সম্পর্কিত ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক সার্টিফিকেশন পাওয়ার কথা বিবেচনা করুন। সার্টিফিকেশন আপনার দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারে এবং সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের কাছে আপনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

     ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম: ডেটা এন্ট্রি গিগগুলি খুঁজে পেতে আপওয়ার্ক, ফাইভার বা ফ্রিল্যান্সারের মতো ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলি অন্বেষণ করুন। আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে একটি প্রতিযোগিতামূলক কিন্তু ন্যায্য হার সেট করুন।

     নেটওয়ার্কিং: LinkedIn এর মতো সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আপনার শিল্পের পেশাদারদের সাথে সংযোগ করুন। নেটওয়ার্কিং ফ্রিল্যান্স বা ফুল-টাইম ডেটা এন্ট্রি অবস্থানের জন্য সুযোগ খুলতে পারে।

     সময় ব্যবস্থাপনা: আপনার দক্ষতা এবং উত্পাদনশীলতা উন্নত করুন। আপনি যত দ্রুত এবং আরও নিখুঁতভাবে কাজগুলি সম্পূর্ণ করতে পারবেন, তত বেশি কাজ আপনি নিতে পারবেন, সম্ভাব্যভাবে আপনার আয় বৃদ্ধি পাবে।

     অন্যান্য দক্ষতা অন্বেষণ করুন: ডেটা এন্ট্রির বাইরে আপনার দক্ষতার সেটকে প্রসারিত করার কথা বিবেচনা করুন। স্প্রেডশীট বিশ্লেষণ, মৌলিক প্রোগ্রামিং বা নির্দিষ্ট সফ্টওয়্যার ব্যবহার করার মতো সম্পর্কিত ক্ষেত্রে জ্ঞান আপনাকে আরও বহুমুখী এবং চাহিদার মধ্যে রাখতে পারে।

মনে রাখবেন, একটি টেকসই এবং নৈতিক ক্যারিয়ার গড়তে ক্রমাগত উন্নতি, পেশাদারিত্ব এবং সৎ প্রচেষ্টা জড়িত। শর্টকাট বা কৌশল খোঁজার পরিবর্তে আপনার দক্ষতা এবং উত্সর্গের মাধ্যমে মূল্য প্রদানের দিকে মনোনিবেশ করুন।

 


 


  • মোবাইলে ডাটা এন্ট্রি
  • মোবাইলে ডাটা এন্ট্রি করে আয় করার উপায়
  • ১. ফ্রিল্যান্সিং
  • ২. অনলাইন সার্ভে (Online Survey)
  • ৩. ক্যাপচা পূরণ (Captcha Solving)
  • ৪. মাইক্রো টাস্কিং (Micro Taking App)
  • ৫. ট্রান্সক্রিপশন ( Transcription Service)

 

কেন করবেন ডাটা এন্ট্রি? 

তথ্য প্রযুক্তির আধুনিক যুগে, ডাটা সুবিন্যস্ত করা খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, খুব সহজেই এই কাজের দক্ষতা অর্জন করা যায়। এবং, এই দক্ষতাকে ব্যবহার করে অর্থও উপার্জন করা যায়। 

এছাড়াও, ঘরে বসে এই কাজ করা যায়। পাশাপাশি, এই কাজ করে খুব সহজে বৈদশিক মুদ্রাও অর্জন করা যায়। তাই, ডাটা এন্ট্রির কাজ আজকের এই দিনে সবার কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছাত্র থেকে শুরু করে চাকুরীজীবি, সবাই ছুটছেন এই কাজের পেছনে। 

এখন, আপনিও যদি চান, অল্প পরিশ্রমে বেশি অর্থ উপার্জন করতে, তবে আজই শুরু করে দিন ডাটা এন্ট্রির কাজ।

কী কী যোগ্যতা লাগে?

ডাটা এন্ট্রি কাজের জন্য খুব বেশি যোগ্যতার প্রয়োজন পড়ে না। তারপরও, যেসব যোগ্যতা থাকা দরকার, তা নীচে বর্ণিত হলো। 

১. ইন্টারনেট থেকে তথ্য খুঁজে বের করা।

২. প্রজেক্ট বোঝার মতো ইংরেজিতে হালকা জ্ঞান। 

৩. দ্রুত টাইপ করার ক্ষমতা।

৪. বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ফোরাম সম্পর্কে ধারনা। 

৫.মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ও মাইক্রোসফট এক্সেল ব্যববহারে সুদক্ষতা। 


কী কাজ করবেন ও কীভাবে আয় করবেন?

১. ফ্রিল্যান্সিং করে

বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ডাটা এন্ট্রির কাজ দেয়। এর মধ্যে একটি হলো ফাইভার। 

ফাইভারে নিজের নামে একাউন্ট করে কাজ খুঁজে নেওয়া যায়। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০-২০০ কোম্পানি ফাইভারে ডাটা এন্ট্রির কাজ দেয়। 


২. ক্যাপচা এন্ট্রি করে

বাড়তি উপার্জনের জন্য ক্যাপচা এন্ট্রির কাজ করতে পারেন। এ কাজ করে আপনি মাসে ১৫০০০-২০০০০  টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

এক্ষেত্রে, অবশ্যই আপনার টাইপিং স্পিড ভালো হতে হবে। কেননা, টাইপিং স্পিডের উপর নির্ভর করে আপনার আয় উঠা নামা করবে।

৩. শুনে শুনে লিখে

অডিও শুনে শুনে ওয়ার্ড ফাইলে লিখে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারেন। কিন্তু, এজন্য আপনার শোনার ক্ষমতা প্রখর হতে হবে।

এমন যদি হয়, আপনি ঠিকঠাক মতো শুনলেন না, তবে ভুল তথ্য লিখে ফেলতে পারেন। আর, এই ভুল তথ্যটি ডাটা এন্ট্রির জন্য খুবই ক্ষতিকারক। 

এক্ষেত্রে, আপনার ইংরেজি বোঝার ক্ষমতা ভালো হতে হবে। কেননা, প্রতিটি শব্দ বুঝে শুনে সঠিকভাবে আপনার লিখতে হবে।

৪. ইমেইল প্রসেসিং করে

ডাটা এন্ট্রির ক্ষেত্রে ই-মেইল প্রক্রিয়াজাত করে অনেক অর্থ উপার্জন করা যায়।

এক্ষেত্রে, আপনাকে বেশ কয়েকটি কাজ করতে হবে। প্রথমে এক্সেল স্প্রেডশিট বানাতে হবে ইমেইল চেক করতে। তারপর, একটি তালিকা করে দৈনিক শত শত মেইল প্রসেসিং করতে হবে। 

কাজটা একটু জটিল। তবে, করতে পারলে বিপুল পরিমান অর্থ আয় করতে পারবেন।

৫. মাইক্রো জব

মাইক্রো জব একটি বিকল্প আয়ের মাধ্যম। বিশেষ করে, যারা টাইপিং সম্পর্কিত চাকরী খুঁজছেন। 

মাইক্রো জবের সাইটে আপনি কর্মী হয়ে কাজ করতে পারেন। এটি অন্যান্য কাজের চেয়ে তুলনামূলক সহজ। তাই, এই কাজের জন্য কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই।

৬. ওয়েব সিস্টেমে ডাটা এন্ট্রি

বিভিন্ন ক্যাটালগ থেকে ওয়েব সিস্টেমে তথ্য লেখাই এই ডাটা এন্ট্রির কাজ। এক্ষেত্রে, আপনাকে আইন বিভাগগুলো ও বীমা দাবীগুলো পড়তে হবে। তারপর, সেখান থেকে তথ্য ওয়ার্ড ফাইল বা এক্সেল স্প্রেডশিটে লিখতে হবে। 

এ কাজে আপনাকে অনেক তথ্যই লিখতে বলা হতে পারে। উদাহারণস্বরূপ: অটোমোবাইলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, মালিকের নাম ইত্যাদি।

৭. ক্যাপশনিং

ক্যাপশনিংয়ের কাজটি এডভান্স লেভেলের। কেননা, এখানে আপনাকে হেডলাইন লিখতে হবে। এছাড়াও, আপনাকে খবরের হেডলাইন বা ছবির ক্যাপশন লিখতে হবে।

কিন্তু, এই কাজটি তেমন একটা পাওয়া যায় না। পাশাপাশি, এই কাজ করে খুব বেশি টাকা আয় করা যায় না। তাই, ভালো মানের ডাটা এন্ট্রি কর্মীরা এই কাজটি খুব একটা করেন না।

৮. ডাটা ফরমেটিং

ডাটা ফরমেটিংয়ের কাজে আপনাকে টাইপ করতে হয় কম। এবং, ফর্মেটিং করতে হয় বেশি। তবে, এই কাজে আয়ের

পরিমাণটাও মোটামুটি ভালোই বলা চলে।

৯. কপি-পেস্ট 

এই কাজটি খুবই সহজ। একটি ফাইল থেকে ডাটা কপি করে অন্য একটিতে পেস্ট করা। সাধারণত, কাজটি ওয়ার্ড ডকুমেন্ট বা এক্সেল স্প্রেডশিটে করা হয়ে থাকে।

কপি-পেস্টের কাজে খুব বেশি টাইপ করতে হয় না। তবে, এই কাজ করার জন্য ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া খুব জরুরি।

১০. ইমেজ থেকে টেক্সট ডাটা এন্ট্রির কাজ

এখানে, আপনাকে একটি ছবি দেয়া হবে। ছবিটি হতে পারে কোনো স্ক্রিনশটও।

আপনাকে সেই ছবি থেকে পড়ে ওয়ার্ড

ডকুমেন্টে লিখতে হবে। তবে, আপনাকে মনে রাখতে হবে, এগুলো কোনো সাধারণ শব্দ না। এগুলো, এমন কোনো শব্দ যা হতে পারে আপনি এর আগে কখনো শুনেননি।

১১.রি-ফরমেটিং ও কারেকশন-

সাধারণত ওয়ার্ড ডকুমেন্ট ফর্মেটিং, ফর্মেটিং  জবস এর মধ্যে থাকে। এখানে, এলিগনিং প্যারাগ্রাফ, ইনডেনটেশন, ফন্টস ইত্যাদি কাজগুলো করা লাগে।

এছাড়াও, আপনাকে অনেক সময় বড় কোনো ফরম

ফরমেট করতে হতে পারে। সেখানে, বিভিন্ন রকমের ফিল্ড থাকবে; যেমন- নাম, ইমেইল আইডি, এড্রেস, ফোন নাম্বার ইত্যাদি।

১২. ফরমেটিং ও এডিটিং

এই কাজ করার জন্য আপনার ইংরেজির উপর বিশেষ দক্ষতা থাকতে হবে। কেননা, এখানে আপনি শুধু

স্পেলিং মিস্টেকগুলোই ঠিক করবেন না। পাশাপাশি, আপনাকে গ্রামারও ঠিক করতে হবে।

 

১৩. অনলাইন ডাটা ক্যাপচারিং

এই কাজ করার জন্য আপনাকে বিভিন্ন ই-ম্যাগাজিন এবং ই-বুক হতে ডাটা সংগ্রহ করতে হবে।

এই কাজটির জন্য ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা থাকা খুব বেশি প্রয়োজন। 

ডাটা এন্ট্রির কাজে কী ধরণের অসুবিধের সম্মুখীন হবেন?

অন্যান্য কাজের তুলনায় ডাটা এন্ট্রির কাজ অনেক সহজ। কিন্তু, এরও কিছু সমস্যা আছে। তবে, আগে থেকে সতর্ক থাকলে, খুব সহজে এদের এড়ানো যায়। 

ডাটা এন্ট্রির কাজে অসুবিধেসমূহ-

১. এ ধরণের কাজে অনেক প্রতিযোগিতা থাকে। তাই, প্রথমে কাজ পাওয়া অনেক কঠিন।

২. এ কাজে মেধা বা দক্ষতা প্রমানের তেমন সুযোগ নেই। তাই,  একটা সময় পর একঘেয়েমি চলে আসে।

৩. এ কাজ অল্প সময়ে সম্পন্ন করতে হয়। করে, ফাইল আপলোড করতে হয়। কিন্তু, ইন্টারনেটের স্পিড কম থাকলে, তা আর সম্ভব হয় না।

৪. অনেক ডাটা এন্ট্রির কাজ একা শেষ করা সম্ভব হয় না। এজন্য, প্রয়োজন পড়ে অনেক মানুষের।

৫. সবসময় মনোযোগ ধরে রাখতে হয়। মনোযোগ একবার ছুটে গেলে কাজে ভুল হতে পারে।

ডাটা এন্ট্রির কাজ করে আপনি ঘরে বসেই অনেক টাকা উপার্জন করতে পারবেন। কিন্তু, এই কাজটি সহজ হলেও, অনেকদিন করবার পর বিরক্তি চলে আসে। 

তাই, অনেকেই এই কাজটি কিছুদিন করার পর আর করতে আগ্রহবোধ করে না। সেক্ষেত্রে, আপনি যদি অন্য কোনো কাজের মাধ্যমে আয় করতে চান, তবে ঘুরে আসুন আমাদের সাইটে। আমরা প্রতিনিয়ত আয় করার বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরি আমাদের সাইটে।

আশা করি, এই পোস্টের মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রি সম্পর্কে আপনাদের বিস্তারিত ধারণা হয়ে গেছে। এখন, চাইলেই আপনারা আমাদের দেওয়া পরামর্শগুলো মেনে চলতে পারেন। বিনিময়ে, কাজটি করে আপনারা দেশ, বিদেশ থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। এর ফলস্বরূপ গড়ে উঠবে আপনাদের স্বাবলম্বী এক সুন্দর জীবন।

 

 

No comments

Powered by Blogger.