দ্রুত বীর্যপাত এর কারন ও প্রতিকার ডা.মোঃ মুরাদ হোসেন- কি খেলে বীর্যপাত ঘন হয় এবং কি খেলে দীর্ঘক্ষন সহবাস করা যায়?
অনেকে বিভিন্ন ধরনের যৌন সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে বুঝতে পারছেন না এবং এমন একটা সময়ে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেন, যখন আসলে অনেক ক্ষেত্রে সারিয়ে তোলা সম্ভব হয় না। অকাল বীর্যস্খলন বা দ্রুতস্খলন হলো যৌনসঙ্গমকালে পুরুষের দ্রুত বীর্যপাত হওয়়া । এটি একটি সাধারণ যৌনগত সমস্যা।
কিছু বিশেষজ্ঞের মতে
প্রতি তিনজন পুরুষের মধ্যে একজনকে এ সমস্যায় আক্রান্ত হতে দেখা যায়।
স্ত্রী যোনীতে পুরুষাঙ্গ প্রবেশের পর অঙ্গ চালনার পরিণতি হিসেবে বীর্যপাত হয়ে থাকে।আজ আমরা জানব প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন কেন হয়।
দাম্পত্যজীবনে কলহ,হতাশা,অস্থিরতা,হতাশা,কিংবা পারষ্পরিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এর অনেক কারনের মধ্যে অন্যতম একটি হলো পুরুষের দ্রুত বীর্যপাত বা Premature Ejaculation.কিন্তু সামাজিক ব্যবস্থা ও লোক লজ্জার ভয়ে এই ব্যাপারগুলি কখনো সামনে আসে না।যদি ইদানিংকালে আপনার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে থাকেন,তাহলে বলবো আপনার স্ত্রীকে অবগত রেখে নূন্যতম একমাস সহবাস থেকে বিরতি নিয়ে নিন।যদি এরও বেশি সম্ভব হয় তাহলে আরও ভালো হবে।
- এখন যে বিষয়টি প্রথমত আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই করতে হবে তা হলো কোনো প্রকার হোমিওপ্যাথিক ডক্টর দেখাবেননা বা ফার্মেসি থেকে আন্দাজে কোনো ঔষধ সেবন করবেননা।
- দ্বিতীয়ত আপনার জানা শোনা বা বড়দের কাছ থেকে জেনে এমন কোনো যৌন বিষেশজ্ঞ ডক্টরের দারস্থ হোন যার ট্রিটমেন্ট সত্যিকার অর্থেই কার্যকরী হবে।আর আপনাকে খুব খুব হাই লেভেলের মানসিক শক্তি ধারণ করতে হবে।দিন শেষে আপনার অনুপ্ররণা কিন্তু আপনি নিজেই।
দ্রুত বীর্যপাত বা Premature Ejaculation এর লক্ষণ সমুহঃ DMS-5 অনুসারে,একজন ব্যক্তি যদি নিম্নোক্ত সমস্যা সমূহ অনুভব করেন,তবে তার দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যা রয়েছেঃ
ক) শারীরিক সম্পর্কের ১মিনিটের কম সময়ের মধ্যে বীর্যপাত।
খ) যদি এই সমস্যা ৬মাস বা তার অধিক সময় ধরে চলতে থাকে।
গ) ৭৫-১০০% ক্ষেত্রে যদি সময়ের আগেই বীর্যপাত হয়ে যায়।
ঘ) পার্টনারের মধ্য যৌন অসন্তোষ, হতাশা সৃষ্টি হওয়া।
ঙ) কোন মানসিক বা শারীরিক রোগের উপস্থিতি, যা থেকে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
চ) কোন মাদকদ্রব্য বা ওষুধ সেবন,যার কারণে দ্রুত বীর্যপাত হচ্ছে।
দ্রুত বীর্যপাতের কারণঃ
দ্রুত বীর্যপাতের কারণগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়ঃ
১)জৈবিক কারন
২) মানসিক কারন
১) জৈবিক কারণ সমূহঃ
ক) ডায়াবেটিস।
খ) থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা।
গ) বিভিন্ন হরমোন জনিত সমস্যা।
ঙ)হৃদরোগ।
চ) মূত্রনালির সংক্রমন ও প্রদাহ।
ছ) বিভিন্ন রোগ, যেমনঃ সিফিলিস, গনোরিয়া ইত্যাদি।
জ) বিভিন্ন ওষুধ।
ঝ) সার্জারি বা আঘাত জনিত কারণে স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে।
২) মানসিক কারণ
ক) দুঃশ্চিন্তা/মানসিক চাপ/ডিপ্রেশন।
খ) শারীরিক দূর্বলতা।
গ) সঠিক যৌন শিক্ষার অভাব।
ঘ) প্রি ম্যারাইটাল বা বিবাহ পূর্ব কাউন্সিলিং এর অভাব।
ঙ) সেক্স সম্পর্কে ভুল ধারনা।
চ) কম বয়সে সহবাস।
ছ) অতিরিক্ত প্রত্যাশা।
জ)আগের ব্যর্থতা বার বার মনে করা।
ঝ)সেক্সুয়াল এবিউজ।
ঞ)সম্পর্ক অবনতি /দাম্পত্য কলোহ।
ট)চাকরি -ব্যবসা জনিত কারণে দূরে থাকেন এবং অনেকদিন পরপর শারীরিক সম্পর্কের সুযোগ পান।
ঠ)মাদকাসক্ত /নেশাগ্রস্ত।
এনটিভির নিয়মিত স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান স্বাস্থ্য প্রতিদিনের একটি পর্বে যৌন সমস্যা সম্পর্কে বলেছেন ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মেহরান হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. সামিউল আউয়াল স্বাক্ষর।
সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. মেহরান হোসেন বলেন, প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশনের বাংলা, যেটা খুব কমন—দ্রুত বীর্য পতন। শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই হাজার হাজার রোগীর কমপ্লেইন। এখানে কিছু জিনিস আমাদের মনে রাখতে হবে, কখন আমরা প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন বলব। সেটা কতক্ষণ পরে। এটা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে।
এটা কান্ট্রি টু কান্ট্রি, রিজিওন টু রিজিওন—জিওগ্রাফি ভ্যারি করে। যেমন আমরা জেনেটিক্যাল পরীক্ষা করে দেখি সৌদি আরবের একটা মানুষ বা আফ্রিকার একটি মানুষের কিন্তু ন্যাচারালি ইজাকুলেশন টাইমটা বেশি। এশিয়া বা সাবকন্টিনেন্টে সেটা কম। এখন পর্যন্ত কোনও বইখাতায় কোনও কনক্লুসনে যাওয়া যায় না যে এই সময়টুকু না হলে আমরা প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন বলব, এই সময়টুকু হলে আমরা প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন বলব না।
এক থেকে দেড় মিনিটের আগে যদি তার ইজাকুলেশন হয়ে যায়, একে আমরা সাধারণত প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন বলি। প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশনের অনেক কারণ আছে। প্রথম কারণ হচ্ছে ইডিওপ্যাথিক, মানে কোনও কারণ পাওয়া যাচ্ছে না।
দুই নম্বর হচ্ছে সাইকোলজিক্যাল। সাইকোলজিক্যালের মধ্যে অনেক কিছু চলে আসে। যেমন মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, ঘুমের অভাব, যৌনশিক্ষার অভাব, ছোটকালে যদি সেক্সুয়াল ট্রমা থাকে বা ভয় থাকে, ঘুমের অসুবিধা, পারিবারিক কলহ—এ রকম অনেক ব্যাপার চলে আসে। এরপর আসে বিভিন্ন ওষুধ। অনেক ওষুধের সাইড ইফেক্টের কারণে প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন হয়ে থাকে। আবার কিছু রোগ আছে। যেমন ডায়াবেটিস হলে, থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে, টেস্টোস্টেরন হরমোনের ইমব্যালান্স হলে; আরও অনেক কারণ আছে। মানুষের অভ্যাসের মধ্যে যেটা আছে—স্মোকিং ও অ্যালকোহল। এ দুটো অভ্যাস যাদের থাকে, তাদের প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন হয়।
প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশনের চিকিৎসা পদ্ধতি বাংলাদেশে কি রয়েছে? আমরা যদি দেখি, অনেকে চিকিৎসকের কাছে যেতে লজ্জা বোধ করেন। অনেককে বৈবাহিক জীবনে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এ ক্ষেত্রে কী কী করণীয় ও চিকিৎসা পদ্ধতি কী কী রয়েছে? সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. মেহরান হোসেন বলেন, এখানে আপনাকে কয়েকটা স্টেপে চিন্তা করতে হবে। একটা হচ্ছে কজটা ইভ্যালুয়েট করতে হবে। কারণটা। ডায়াবেটিসের কারণে হচ্ছে কি না, হরমোনের কারণে হচ্ছে কি না, থাইরয়েডের কারণে হচ্ছে কি না, না কি স্মোকিং-অ্যালকোহল থেকে হচ্ছে; তো কারণটা যদি আমরা আইডেন্টিফাই করতে পারি, তাহলে সে ক্ষেত্রে কারণটাকে বন্ধ করতে হবে বা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাহলে সে ক্ষেত্রে ইমপ্রুভমেন্ট পাব।
কি খেলে বীর্যপাত ঘন হয়:
রাতে শুবার সময় ইসুপগুলের ভুসি পানি দিয়ে খাবেন ৭ দিন খান ফলাফল নিজেই পাবেন। কোথায় আছে দাদা খেলে দাদি খুশি নানা খেলে নানি খুশি এরেই নাম ইসুপগুলের ভুসি। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেলে এমনিতেই পুরুষের বীর্য ঘন হয়ে থাকে। যেমন প্রতিদিন দুধ, ডিম, মধু গ্রহণ করলে সাধারণত আর কোনো কিছুরই দরকার পড়ে না।
পুরুষের বীর্য বাড়াতে সাহায্য করে যেসব খাবার যেমন-
প্রাকৃতিক ফলমূল,দুধ,মুরগির ডিম,কাকড়া খেয়েও বীর্য্য বৃদ্ধি হয়। তবে প্রধানত তাল মাখনা,খেজুর,কিসমিস, ভেজানো ছোলা ও অস্বগন্ধার মূল সেবন করলে অবশ্যই বীর্য্য বৃদ্ধি হবে। অশ্বগন্ধার মূল যদি না মেলে তবে হোমিওপ্যাথি অস্বগন্ধা মাদার টিনকচার সেবন করলে সমস্ত ধরনের যৌণ দুর্বলতা দূর করে। বীর্য্য উৎপাদনে অশ্বগন্ধার কোনো জুড়ি নেই।
কলা = অতি পরিচিত ও সহজলভ্য এই ফলটি বীর্যে শুক্রাণুর পরিমাণ অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। কলাতে বোমেনাইল নামের বিশেষ এক ধরনের উৎসেচক রয়েছে। এটি যৌন উদ্দীপক হরমোনগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে।
তৈলাক্ত মাছ = তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এটি বীর্যের গুণ বাড়াতে সাহায্য করে। গবেষনায় দেখা গেছে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত মাছ খেলে বীর্যের গুণ ও পরিমাণ দুই-ই বাড়ে। তাছাড়া এটি মস্তিষ্কে যৌন উদ্দীপনার অনুভুতি জাগিয়ে তোলে।
ডার্ক চকোলেট = এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, যা যৌন উদ্দীপনা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও ডার্ক চকোলেটে আছে এল-আর্জিনিন এইচসিএল ও অ্যামিনো অ্যাসিড। এই উপাদানগুলো বীর্যের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।
রসুন = রসুনে সেলেনিয়াম নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা বীর্যের সক্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও রসুনে রয়েছে আলিকিন, যা যৌনাঙ্গে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। একইসঙ্গে বীর্যের পরিমাণও বাড়ায়।
লেবুজাতীয় ফল = লেবুজাতীয় ফলে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পুরুষের বীর্যের মান উন্নত করে। লেবু, আঙ্গুরের রস এই সমস্যায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সমাধান / চিকিৎসাঃ
সঠিক রোগ নির্ণয় এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং গ্রহনের মাধ্যমে ৯০-৯৫% ক্ষেত্রে দ্রুত বীর্যপাত রোগে আক্রান্ত পুরুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।তাই ভয় বা লজ্জা পেয়ে রোগ না লুকিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন,সুস্থ থাকুন।

No comments